মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে গর্ভনিরোধক ইমপ্লান্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অপসারণ সেবা না পাওয়ার অভিযোগ প্রকাশের পর অবশেষে ভুক্তভোগীদের ফোন করে এনে ইমপ্লান্ট অপসারণ করা হয়েছে।
গত ১৫ জুলাই ই -প্রেস নিউজে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়, যেসব নারীর গর্ভনিরোধক ইমপ্লান্টের মেয়াদ শেষ হয়েছে, তারা নির্ধারিত সময়ে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে গিয়ে চিকিৎসককে না পেয়ে বারবার ফিরে আসতে বাধ্য হচ্ছিলেন। ফলে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি তারা চরম ভোগান্তির শিকার হন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর গত সোমবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আগের মতো শুধু গ্রুপ মেসেজ না দিয়ে ভুক্তভোগীদের ব্যক্তিগতভাবে ফোন করে পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে আসতে অনুরোধ করেন। পরে তাদের ইমপ্লান্ট অপসারণ সেবা প্রদান করা হয়।
এক ভুক্তভোগী নারী বলেন, “আমার ইমপ্লান্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর এটি খুলে সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলাম। কিন্তু দীর্ঘদিন পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে গিয়েও ইমপ্লান্ট খুলতে পারিনি। পরে হঠাৎ করেই ডাক্তার সুজন চন্দ্র সাহা আমাকে ফোন করে ডেকে এনে ইমপ্লান্ট খুলে দেন। তবে এর আগে সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আমাকে নানা জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে।”
এ বিষয়ে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ও মেডিকেল অফিসার ডা. সুজন চন্দ্র সাহার বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
হবিগঞ্জ জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপপরিচালক এ কে এম সেলিম ভূঁইয়া বলেন, “ইমপ্লান্ট অপসারণ আমাদের নিয়মিত দায়িত্ব। প্রতি মাসেই এ সেবা দেওয়ার জন্য নির্ধারিত তারিখ থাকবে। আমি ডা. সুজন চন্দ্র সাহাকে নির্দেশ দিয়েছি, মাসে একটি নয়, দুটি তারিখ নির্ধারণ করতে, যাতে মানুষের ভোগান্তি কমে। বিষয়টি আমি নিজেই তদারকি করছি। আশা করি ভবিষ্যতে এ ধরনের সমস্যা আর হবে না।”
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
© ২০২৬ একটি ই-প্রেস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড প্রকাশনা ( গভঃ রেজিষ্টার্ড )