দ্রুত পরিদর্শন ও মজুদের সঠিক যাচাইয়ের দাবি
অনুসন্ধানী প্রতিবেদনঃ
গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কামদিয়া খাদ্য গুদামে চাল ঘাটতির গম্ভীর অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শরিফুল ইসলামের মাধ্যমে অগ্রিম বিল করে চাল সংগ্রহের নামে অনিয়মের সুযোগ তৈরি হয়েছে, যার ফলে বাস্তব চাল মজুদ অনেক কম দেখা যাচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে খাদ্য গুদাম সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যবসায়ী জানান, ১৫ আগস্ট ২০২৫ ইং তারিখে খাদ্য গুদামে চাল সংগ্রহের নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হলেও এরপরও প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫টি ট্রাক নিম্নমানের চাল গুদামে ঢুকছে, যা সম্পূর্ণরূপে বিধি লঙ্ঘন।
কামদিয়া খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম দৃষ্টি আকর্ষণ করলে জানান, ‘ফলিত চাল নেওয়া হচ্ছে।’ তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, ১৫ আগস্টের মধ্যেই ফলিত চাল গুদামে নেওয়া শুরু হয়।
এলাকার ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, এক প্রভাবশালী মিল চাতাল মালিকের নেতৃত্বে গুদামের কর্মকর্তারা সমন্বয় করে অবৈধভাবে নিম্নমানের চাল গুদামে গ্রহণ অব্যাহত রেখেছেন।
অধিকন্তু, ১৫ আগস্টের মধ্যে অতিরিক্ত পাঁচ শতাধিক মেট্রিক টন চাল ক্রয় দেখিয়ে অগ্রিম বিল করা হয়েছে। ২০ আগস্ট পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী, এই অতিরিক্ত চালের অন্তত আড়াই শতাধিক মেট্রিক টনের কোনো অস্তিত্ব নেই বলে বিশ্বস্ত সূত্র দাবি করেছে।
সর্বস্তরের জনগণ এবং খাদ্য গুদাম সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা দ্রুত সময়ের মধ্যে কামদিয়া খাদ্য গুদামের মজুদের সঠিক যাচাই ও তদন্ত দাবি করছেন। তারা সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কর্তৃপক্ষের তৎপর হস্তক্ষেপের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছেন।
সচেতন মহল মনে করেন, কামদিয়া খাদ্য গুদামে চলমান অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার প্রকৃত স্বরূপ উদঘাটনের জন্য জরুরি ভিত্তিতে তদন্ত ও মজুদের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। কারণ এই অনিয়ম শুধু স্থানীয় সমস্যা নয়, এটি দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপরও গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।
সুতরাং, জনগণের আস্থা রক্ষায় এবং অনিয়মকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কামদিয়া খাদ্য গুদামের বিষয়টি এখনই গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা জরুরি। অন্যথায়, এ ধরনের দুর্নীতি ভবিষ্যতে দেশের খাদ্য ব্যবস্থাপনায় বড় সংকটের সূচনা করতে পারে।
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
© ২০২৬ একটি ই-প্রেস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড প্রকাশনা ( গভঃ রেজিষ্টার্ড )