স্টাফ রিপোর্টারঃ গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় ২০১৪ সালের একটি পুরনো ঘটনাকে কেন্দ্র করে ২০২৫ সালের ১৯ এপ্রিল গোবিন্দগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে, যেখানে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ২২১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। মামলাটি এখন গোবিন্দগঞ্জের ‘টক অফ দ্য টাউন’-এ পরিণত হয়েছে। মামলার নং-০৭।
এই মামলায় ৬৮, ১৮৯ এবং ২২১ নং কলামে রয়েছেন তিনজন সম্মানিত সাংবাদিক। যথাক্রমে—অনলাইন পোর্টাল ‘গোবি খবর’-এর প্রকাশক ও সম্পাদক সাংবাদিক রায়হান মোস্তফা কামাল সুমন (৬৮), জাতীয় দৈনিক ‘আমার সংবাদ’-এর গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি ও বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব গাইবান্ধা জেলা শাখার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন (১৮৯), এবং জাতীয় দৈনিক ‘ভোরের কাগজ’-এর গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি ও রিপোর্টার্স ফোরামের সাবেক সভাপতি শাহ আলম সরকার সাজু (২২১)।
সাংবাদিক মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, “আমি একজন নির্যাতিত ব্যক্তি হয়েও আজ এই মামলার আসামি। এটি অবাক করার মতো বিষয়।”
তিনি আরো বলেন, “মামলার প্রধান আসামি সাবেক এমপি আবুল কালাম আজাদ, যিনি দীর্ঘদিন ধরে আমাদের হয়রানি করে আসছেন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন তাঁর লেলিয়ে দেওয়া সন্ত্রাসীরা আমাকে আহত করে। ২০১৫ সালের ৫ আগস্ট আমাকে অপহরণ করে থানার চারমাথা তালুকদার মার্কেটের অফিস থেকে তুলে নিয়ে যায় এবং উপজেলা প্রশাসন চত্বরে অস্ত্র ঠেকিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। এ ঘটনার প্রতিবাদে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছিল।”
তিনি বলেন, “আমার বৈধ চাকুরির জাতীয়করণ রোধ করার জন্য ২০১৩ সালে আবুল কালাম আজাদ শিক্ষা অফিসারকে তথ্য ফর্মে শিক্ষাগত যোগ্যতা না দিতে বাধ্য করেন। ফলে আমার চাকুরি জাতীয়করণ হয়নি।” তিনি অভিযোগ করেন, “আবুল কালাম আজাদ ও তাঁর বাহিনী আমার স্ত্রী সহ মোট চারজন শিক্ষক-শিক্ষিকার চাকুরি জাতীয়করণ করতে দেয়নি, ফলে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।”
সাংবাদিক মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, “আমি আওয়ামী লীগের কোনো কমিটিতে নেই, কোনো লুটপাটে জড়িত না, এমনকি আবুল কালাম আজাদ গংদের সঙ্গেও আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমি শুধু অন্যায়ের বিরুদ্ধে কলম ধরেছি। এই মামলাটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং হয়রানিমূলক।”
তিনি আরো উল্লেখ করেন, “একই মামলায় একজন নির্যাতকের সঙ্গে একজন নির্যাতিত ব্যক্তি কীভাবে আসামি হয়, এ নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে।”
তাঁর ভাষায়, “চাঁদপাড়া শামসুল হক দাখিল মাদ্রাসার সুপার আব্দুল গনি যখন সন্ত্রাসীদের দ্বারা অপমানিত ও মারধরের শিকার হন, আমি তখন উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কক্ষে থেকে পুলিশ সুপার মহোদয়কে অবগত করি, যার হস্তক্ষেপে তিনি রক্ষা পান।”
তিনি বলেন, “আমাদের অপরাধ শুধু একটি—আমরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলি। আমাদের বিরুদ্ধে লুটেরা, অজ্ঞান পার্টি, গরু চোর, দাদন ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে লেখালেখি করার জন্য বারবার হামলা, মামলা ও হত্যাচেষ্টা হয়েছে। এখন আবার মিথ্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে।”
এদিকে গোবিন্দগঞ্জের সর্বস্তরের জনগণ ও সাংবাদিক সমাজ এই মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন এবং বলেন, “১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার ২২১ জনকে বাদী কিভাবে চিনলেন এবং কিভাবে তাদের সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করলেন, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।”
মামলার বাদী আজাদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। ভুক্তভোগী পরিবার ও সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ এই মিথ্যা মামলা থেকে নির্দোষ ব্যক্তিদের মুক্তি এবং সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
© ২০২৬ একটি ই-প্রেস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড প্রকাশনা ( গভঃ রেজিষ্টার্ড )