গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সিনিয়র সাংবাদিক ও দৈনিক ভোরের কাগজ পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি শাহ আলম সরকার সাজুকে গ্রেফতারের ঘটনায় ক্ষোভ, নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন সর্বস্তরের সাংবাদিক ও স্থানীয় জনগণ। গত ২৪ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) রাত ৮টার দিকে গোবিন্দগঞ্জ বন্দরে থেকে তাকে গ্রেফতার করে থানা পুলিশ। এ ঘটনাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক ও মিথ্যা মামলার অংশ বলে দাবি করেছে সাংবাদিক মহল ও ভুক্তভোগীর পরিবার।
এ ঘটনায় শনিবার (২৫ অক্টোবর ২০২৫) এক যৌথ বিবৃতিতে শাহ আলম সাজুর নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন গোবিন্দগঞ্জ রিপোর্টার্স ফোরামের নেতৃবৃন্দ। বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি সাংবাদিক কমরেড রফিকুল ইসলাম রফিক, সহ-সভাপতি তাজুল ইসলাম প্রধান, সাধারণ সম্পাদক কালা মানিক দেব, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মিন্টু, সাংগঠনিক সম্পাদক রতন ঘোষ, কোষাধ্যক্ষ স্বাধীন দাস, প্রচার সম্পাদক সাইদুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক মিজানুর রহমান প্রধান, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক এটিএম সাজ্জাদ হোসেন সাবু, কার্যকরী সদস্য মো. তারাজুল ইসলাম, নুর আলম আকন্দ, সাধারণ সদস্য বাবু শ্যামল রায় ও রেজুয়ান খান রিকন প্রমুখ।
বিবৃতিতে বলা হয়, “সাংবাদিক শাহ আলম সাজুকে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে গ্রেফতার করা হয়েছে। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং তার দ্রুত মুক্তি দাবি করছি।”
মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ১৫ এপ্রিল জামায়াত সমর্থিত উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নুরুন্নবী প্রধান দায়িত্ব গ্রহণের জন্য মিছিল নিয়ে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা পরিষদে যাওয়ার পথে বিএম বালিকা বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই সময় তৎকালীন এমপি আবুল কালাম আজাদের নেতৃত্বে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়। ঘটনাটির প্রায় ১১ বছর পর আজাদুল ইসলাম (২৭) নামে এক ব্যক্তি ২২১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৫০-৬০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন (মামলা নং ৩৭/১৬৬, জিআর নং ১৬৬/২০২৫)।
স্থানীয়দের প্রশ্ন—“বাদী যখন এখন ২৭ বছর বয়সী, তখন ২০১৪ সালে তার বয়স ছিল মাত্র ১৬ বছর। এমন অবস্থায় তিনি কীভাবে ২২১ জনের পরিচয় শনাক্ত করলেন?” এলাকাবাসীর দাবি, বাদীর দেওয়া তথ্য ও সাক্ষ্যগুলো পুনর্বিবেচনা করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী রেকর্ড করা প্রয়োজন।
গোবিন্দগঞ্জ ও পলাশবাড়ী এলাকায় এই মামলা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। অনেকের অভিযোগ, বাদী ও কয়েকজন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা এই মামলাকে ঘিরে বাণিজ্যিক কার্যক্রমে লিপ্ত হয়েছেন। সচেতন মহলের মতে, ২০১৪ সালের থানার রেকর্ডপত্র যাচাই করলে প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হবে।
গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বুলবুল ইসলাম বলেন, “এটি বহু আগের ঘটনা। আমি তখন থানায় দায়িত্বে ছিলাম না। মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে।”
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন পর একটি পুরনো রাজনৈতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে মিথ্যা মামলা দায়েরের মাধ্যমে অনেক নিরপরাধ মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে। তারা সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি ও ন্যায়বিচার কামনা করেছেন।
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
© ২০২৬ একটি ই-প্রেস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড প্রকাশনা ( গভঃ রেজিষ্টার্ড )