বিশেষ প্রতিনিধি
সমাজসেবা অধিদপ্তর টঙ্গী গাজিপুরের শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র ( বালক) শাখার তত্ত্বাবধায়ক মো: এমরান খাঁনের বিরুদ্ধে দূর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
২৪ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রের কয়েকজন সাবেক শিশু দীর্ঘদিন পর সম্প্রতি জামিনে মুক্তি লাভ করে মহাপরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করে।
বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক এমরান খাঁন যোগদান করার পর থেকে খাদ্য বিতরনে বিভিন্ন অনিয়ম দেখা গেছে। যা অতিতের কোন তত্ত্বাবধায়ক এর সময়ে ঘটেনি। বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক মো: এমরান খান কেন্দ্রে যোগদানের পর থেকে শিশুদের জন্য সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত অর্থ থেকে কৌশলে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে।
ক) খাদ্য মেন্যু অনুযায়ী মাসে ২ দিন গরুর মাংস দেওয়ার কথা থাকলেও গরুর মাংস না দিয়ে মুরগীর মাংস দেওয়া হয়। বর্তমানে কেন্দ্র প্রায় ৭০০ জন শিশু রয়েছে। প্রত্যেক শিশুর জন্য গরুর মাংস বরাদ্দ ০.০৮৫ গ্রাম। সে হিসেবে-
গরুর মাংস দেওয়ার কথা: (৭০০ জন দ্ধ ০.০৮৫ গ্রাম) দ্ধ ২ দিন = ১১৯ কেজি দ্ধ ৭৬০/- = ৯০,৪৪০ টাকা
খ) মুরগীর মাংস দেয়: ১১৯ কেজি ২২০/- ২৬,১৮০ টাকা আত্মসাৎকৃত অর্থের পরিমান: (৯০,৪৪০ টাকা-২৬,১৮০ টাকা) ৬৪,২৬০ টাকা।
খাদ্য মেন্যু অনুযায়ী মাসে ১ দিন ০.১৭০ গ্রাম গরুর মাংস দিয়ে মাসিক উন্নতমানের খাবার দেওয়ার কথা থাকলেও গরুর মাংস না দিয়ে মুরগীর মাংস দেওয়া হয়। সে হিসেবে আত্মসাৎকৃত অর্থের পরিমান: (৯০,৪৪০ টাকা-২৬,১৮০ টাকা) = ৬৪,২৬০ টাকা
প্রতিমাসে ১৭০ গ্রাম আপেল দেওয়ার কথা থাকলেও তা দেওয়া হয় না। আপেল বাবদ আত্মসাৎকৃত অর্থের পরিমান: (১১৯ কেজি দ্ধ ২২০/-) = ২৬,১৮০ টাকা
আনুসাঙ্গিক মালামাল বাবদ প্রতিমাসে প্রায় ২,৫০,০০০/- টাকার মালামাল নেওয়া হয়। কিন্তু প্রতি শিশু ১,০০০/- টাকা হিসেবে বিল করা হয়: (৭০০ জনী ১,০০০/-)= ৭,০০,০০০ টাকা আনুসাঙ্গিক মালামাল বাবদ আত্মসাৎকৃত অর্থের পরিমান: (৭,০০,০০০ টাকা ২,৫০,০০০ টাকা) = ৪,৫০,০০০ টাকা সে হিসেবে, খাদ্য বাবদ প্রতিমাসে আত্মসাৎকৃত অর্থের পরিমান: ১,৫৪,৭০০ টাকা অনুসাঙ্গিক মালামাল বাবদ প্রতিমানে আত্মসাৎকৃত অর্থের পরিমান। ৪,৫০,০০০ টাকা জুলাই/২৫ থেকে জানুয়ারী/৬৬ পর্যন্ত মোট আত্মসাৎকৃত অর্থের পরিমান। (৬,০৪,৭০০ টাকা ৭ মাস)- ৪২,৩২,৯০০ টাকা (বিয়াল্লিশ লক্ষ বত্রিশ হাজার নয়শত টাকা)।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে এমরান খানের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, অভিযোগ কারী ছেলেদের সাথে কথা বলে সত্যতা যাচাই করে সংবাদ প্রকাশ করুন।
তবে অভিযোগ কারীদের কাছে জানতে চাইলে তারা বিভিন্ন ভাবে তথ্য উপাত্ত দিয়ে সত্যতা প্রমাণ সহ অভিযুক্তের বক্তব্যকে প্রত্যাখ্যান করে।
লিখিত অভিযোগের পর ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নেওয়া এবং এ ব্যাপারে বক্তব্য নিতে
সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের মুঠোফোনে কয়েকবার চেষ্টা করেও উনার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয় নি।
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
© ২০২৬ একটি ই-প্রেস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড প্রকাশনা ( গভঃ রেজিষ্টার্ড )