নিজস্ব প্রতিবেদক
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার মাধবপুর দরগাহ বাড়ি পৌর দাখিল মাদ্রাসার সুপার মো. সিদ্দিকুর রহমানকে একটি মারামারি মামলায় গ্রেপ্তার করেছে মাধবপুর থানা পুলিশ।
মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেলে মাধবপুর থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর থানায় হস্তান্তর করে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি দায়ের হওয়া একটি মারামারি মামলায় দণ্ডবিধির ৩২৬ ধারাসহ সংশ্লিষ্ট ধারায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। যেহেতু মামলাটি বিজয়নগর থানায় দায়ের করা হয়েছে, তাই আইনানুগ প্রক্রিয়ায় তাকে ওই থানায় পাঠানো হয়েছে।
বিজয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, “আমরা নিয়ম অনুযায়ী তাকে আগামীকাল আদালতে প্রেরণ করবো।”
মাধবপুর থানার ওসি সোহেল রানা বলেন, “তাকে গ্রেপ্তার করে বিজয়নগর থানায় প্রেরণ করা হয়েছে।”
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাদ্রাসার সুপার মো. সিদ্দিকুর রহমানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে এলাকাবাসী, অভিভাবক, শিক্ষক-কর্মচারী ও সাবেক ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অনিয়ম, প্রশাসনিক দুর্বলতা, মাজারকেন্দ্রিক বাণিজ্য, পরীক্ষা কেন্দ্রে নকল সরবরাহসহ বিভিন্ন বিষয়ে তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের প্রতিবাদে অতীতে মানববন্ধন, স্মারকলিপি প্রদান ও লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে বলেও তারা জানান।
এছাড়া অভিযোগকারীদের দাবি, তার বিরুদ্ধে হবিগঞ্জ আদালতে একাধিক মামলাও চলমান রয়েছে। তারা আরও অভিযোগ করেন, অতীতে তৎকালীন ইউএনও একেএম ফয়সাল তাকে সাময়িক বরখাস্ত করলেও পরবর্তীতে তিনি পুনরায় দায়িত্বে বহাল থাকেন।
তবে তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে সুপার মো. সিদ্দিকুর রহমান বা তার পরিবারের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
এদিকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহল চলমান মামলার অগ্রগতি এবং মাদ্রাসা-সংক্রান্ত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সম্ভাব্য তদন্তের ফলাফলের দিকে নজর রাখছে।