অসীম চন্দ্র দাস, সরাইল ( ব্রাহ্মণবাড়ীয়া )
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার অরুয়াইল ইউনিয়নের চেত্রা নদীতে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের নামে প্রকাশ্য বালি ও মাটি লুটপাটের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বর্ষা মৌসুমের ভরা পানিতে খালের পরিমাপ না করেই দায়সারা খনন এবং উত্তোলিত বালি গোপনে চড়া দামে বিক্রি করছে একটি চক্র। এত বড় একটি রাষ্ট্রীয় প্রকল্পের কার্যক্রম স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে শুরু করায় এবং তথ্যপ্রবাহের চরম ঘাটতি থাকায় প্রকল্পটির স্বচ্ছতা ও উদ্দেশ্য নিয়ে স্থানীয় জনমনে তীব্র সংশয় ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে চেত্রা নদীতে ড্রেজার ও আধুনিক খননযন্ত্র দিয়ে তলদেশ খননের কাজ চলছে। তবে ভরা বর্ষার এই সময়ে, যখন নদী-খাল পানিতে থৈ থৈ করছে, তখন পানির নিচে ঠিক কতটুকু গভীরতা বা সীমানায় খনন প্রয়োজন, তার কোনো বৈজ্ঞানিক ও দৃশ্যমান পরিমাপ ছাড়াই কাজ চালানো হচ্ছে। জনমনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে খননকৃত বিপুল পরিমাণ বালি ও মাটির গন্তব্য নিয়ে। উত্তোলিত বালি বড় বড় নৌযানে (বাল্কহেড) ভরে প্রকাশ্যেই পাচার করা হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, একটি সিন্ডিকেট প্রতি ঘনফুট বালি প্রায় ২০ টাকা দরে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
এদিকে, এটি যদি সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও জনকল্যাণমুখী উন্নয়ন প্রকল্প হয়ে থাকে, তবে এর উদ্বোধন, উদ্দেশ্য, প্রাক্কলিত বাজেট ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্থানীয় ও উপজেলা পর্যায়ের সাংবাদিকদের কেন অবহিত করা হলো না—তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। কোনো প্রকার আনুষ্ঠানিকতা বা প্রচার ছাড়াই লোকচক্ষুর অন্তরালে কাজ শুরু করায় সচেতন মহল মনে করছেন, অনিয়ম ও দুর্নীতি ঢাকতেই সংবাদকর্মীদের এই প্রক্রিয়া থেকে দূরে রাখা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “উন্নয়নের নামে আমাদের এলাকার প্রাকৃতিক সম্পদ লুটপাট হতে দেওয়া যায় না। বর্ষার পানির নিচে কী খনন হচ্ছে কেউ জানে না, অথচ প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার বালি বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। আমরা এই হরিলুটের অবসান চাই।”
এলাকাবাসীর দাবি, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের আড়ালে কোনো ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি বা পরিবেশের ক্ষতি যেন না হয়, সেটি নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও প্রশাসনের দায়িত্ব। তাই চেত্রা নদী খনন প্রকল্পের যাবতীয় তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশ করে একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের চিহ্নিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সরাইলের ভুক্তভোগী জনগণ।