অসীম চন্দ্র দাস সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি,
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে কিশোর মো. জিহাদ (১৬) হত্যার মামলার আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
রবিবার সকাল ৯টা থেকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের পূর্ব কুট্টাপাড়া মোড়ে এই কর্মসূচি শুরু হয়।৯ দিনেও অধরা আসামি, ক্ষুব্ধ স্বজন ও এলাকাবাসীমানববন্ধনে অংশ নেওয়া বক্তারা অভিযোগ করেন, কিশোর জিহাদকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পর ৯ দিন অতিবাহিত হয়ে গেলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি। প্রশাসনের এই নিষ্ক্রিয়তার প্রতিবাদে এবং বাধ্য হয়েই তারা মহাসড়কে নামতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানান।মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট, ভোগান্তিবিক্ষোভের একপর্যায়ে শত শত বিক্ষুব্ধ জনতা ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করলে রাস্তার উভয় পাশে দূরপাল্লার যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে সড়কের দুই পাশে কয়েক কিলোমিটার জুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।মানববন্ধনে উপস্থিত ব্যক্তিবর্গনিহত জিহাদের অবুঝ মৃত্যুর বিচার চেয়ে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন—নিহত জিহাদের বাবা আজগর আলী ও ভাই জিসান।স্থানীয় ব্যক্তিত্ব নাছির খন্দকার, জনি খন্দকার ও রনি খন্দকার।বিএনপি নেতা রসুন আলী, সাবেক ইউপি সদস্য মনজুর, জীবন মিয়া ও জয়নাল মিয়া।প্রশাসনের আশ্বাস ও অবরোধ প্রত্যাহারমহাসড়ক অবরোধের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম এবং সরাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনজুর কাদের ভূঁইয়া। তাদের সঙ্গে যোগ দেন বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেন মাস্টার এবং সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল জব্বার।প্রশাসন ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ আন্দোলনকারীদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় আলোচনা করেন এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে আসামিদের আইনের আওতায় আনার সুনির্দিষ্ট আশ্বাস দেন। প্রশাসনের এই আশ্বাসের ওপর ভরসা রেখে দীর্ঘ সময় পর এলাকাবাসী তাদের অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেন। এরপর ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে পুনরায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
© ২০২৬ একটি ই-প্রেস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড প্রকাশনা ( গভঃ রেজিষ্টার্ড )