বিশেষ প্রতিনিধি
নওগাঁয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এর আওতায় চলমান নির্মাণ কাজের অনিয়ম ধরায় কর্মরত এক উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে মারধর ও লাঞ্ছনার অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে।
বুধবার (১০জুন) সকালে খোদ জেলা এলজিইডি কার্যালয়ে এমন ঘটনা ঘটে।
মারপিটের শিকার হওয়া কর্মকর্তার নাম কামরুল হাসান। তিনি জেলা এলজিইডি কার্যালয়ে উপ-সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্বে আছেন।
আর অভিযোগ ওঠা ব্যক্তির নাম ওবায়দা। তিনি মেসার্স দেওয়ান এন্টারপ্রাইজ নামের এক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ঠিকাদার।
এদিকে নির্বাহী প্রকৌশলী এই ঘটনাকে আড়াল করতে তুচ্ছ ঘটনা বলে দায়সারা জবাব দিলেন।
অপরদিকে অফিস কার্যালয়ে সহকর্মীকে মারধরের এমন ঘটনায় হতবাক হয়েছেন সেখানে কর্মরত কর্মকর্তা কর্মচারীরা।
জানা গেছে, এলজিইডির প্রধান ভবন একটি নির্মাণকাজ কাজ চলছে। মেসার্স দেওয়ান এন্টারপ্রাইজ নামের এক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অধীনে চলা সেই নির্মাণকাজের বিভিন্ন অনিয়ম দেখতে পেয়ে উপ-সহকারী প্রকৌশলী কামরুল হাসান আপত্তি জানান। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ওবায়দার সঙ্গে তার কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে ঠিকাদার ওবায়দা তাকে কলার ধরে লাথি মারেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কার্যালয়ের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী জানান, কর্মস্থলের ভেতরে একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তার ওপর এমন আচরণ অত্যন্ত নিন্দনীয় ও লজ্জাজনক। তাদের ভাষ্য, সরকারি অফিসের মধ্যে একজন প্রকৌশলীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ শুধু ব্যক্তিগত অপমান নয়, এটি সরকারি দায়িত্ব পালনের পরিবেশ ও শৃঙ্খলার ওপরও আঘাত। তারা বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
এ বিষয়ে উপ-সহকারী প্রকৌশলী কামরুল হাসান বলেন, সিডিউল অনুযায়ী কাজের অনিয়ম পেয়ে তৎক্ষণিকভাবে ঠিকাদারকে বাধা দিলে এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে প্রতিষ্ঠানটির মালিক ওবায়দা। একসময় তিনি আমার কলার চেপে ধরে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন। এবং ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে আমি পড়ে যাই। এমন পরিস্থিতি দেখে অন্য স্টাফরা এসে আমাকে উদ্ধার করে। তখন আমি নির্বাহী প্রকৌশলীর অফিস রুমে গিয়ে আমাকে লাঞ্চিত করার পুরো বিষয়টি জানায়।
বিষয়টি জানতে চাইলে একাধিকবার ফোন দিলেও এই প্রতিবেদকের ফোন রিসিভ করেননি ঠিকাদার ওবায়দা। তবে তিনি অপর এক সহকর্মীর কাছে সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটির ঠিকাদার অভিযুক্ত ওবায়দা। তার দাবি এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
রাত সাড়ে ৭টার দিকে জানতে চাইলে নওগাঁ এলজিইডি কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ বদরুদ্দোজা বিষয়টিকে ‘তুচ্ছ ঘটনা’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি মুঠোফোনে বলেন, এটা মেজর কোনো ঘটনা না। এরকম ঘটনা আমাদের প্রতিনিয়ত ঘটছে। এমনকি আমার সাথেও ঘটে। ওই ঠিকাদার উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে মারধর করেনি, তবে শার্ট ধরেছে। এছাড়া ঠিকাদার সকলের সামনে সরি বলেছে। আর তেমন অনিয়ম হচ্ছেনা বলেও ঠিকাদারের পক্ষে সাফাই গেয়ে দায়সারা জবাব দিলেন তিনি।
জানতে চাইলে নওগাঁ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান জানান, এ বিষয়ে আমার কাছে কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। যদি কেউ সহযোগিতা চায়, তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সরকারি দপ্তরের একজন প্রকৌশলী কর্মস্থলে লাঞ্ছনার শিকার হওয়ার অভিযোগকে তুচ্ছ আখ্যায়িত করায় সংশ্লিষ্ট মহলে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে সরকারি কাজের অনিয়মের অভিযোগের জেরে এমন ঘটনা ঘটেছে কি না এবং বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে কি না, তা নিয়েও চলছে আলোচনা সমালোচনা।