ঢাকাশনিবার , ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  1. সর্বশেষ
  2. জাতীয়
  3. সারাদেশ

পরীক্ষা কেন্দ্রের তহবিল থেকে “সম্মানী” নামে ঘুষ বণ্টনের অভিযোগ

প্রতিবেদক
সম্পাদক
২১ মে ২০২৬, ৬:৫১ বিকাল

Link Copied!

মুজাহিদ মশি

হবিগঞ্জের মাধবপুরে ২০২৬ সালের এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষা একাধিক পরীক্ষা কেন্দ্রকে ঘিরে “সম্মানী”র নামে বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তার মধ্যে অর্থ বণ্টনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। পরীক্ষা কেন্দ্রের তহবিল থেকে এ ধরনের লেনদেন এবং পরবর্তীতে ঘাটতি পূরণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর অর্থ দেওয়ার চাপ সৃষ্টি করায় স্থানীয় শিক্ষা মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্র কমিটির ফির তহবিল থেকে জেলা প্রশাসককে ২,৫০০ টাকা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) কে ২,০০০ টাকা, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে ১,৫০০ টাকা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কে ৩,০০০ টাকা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে ১,৫০০ টাকা, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে ২,৫০০ টাকা এবং উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজারকে ১,০০০ টাকাসহ আরও কয়েকজন কর্মকর্তাকে “সম্মানী” প্রদান করা হয়েছে বলে কেন্দ্রের হিসাব খাতায় উল্লেখ রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ ধরনের অর্থ প্রদান শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরীক্ষা পরিচালনা বিধিমালায় নেই। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের এসব দায়িত্ব তাদের নিয়মিত সরকারি কাজের অংশ, যার বিপরীতে আলাদা করে সম্মানী গ্রহণের কোনো বিধান নেই।

এদিকে এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম এসব বিধিবহির্ভূত সম্মানী প্রদান করতে গিয়ে বাজেট ঘাটতিতে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গত ১৩ মে তার স্বাক্ষরিত হিসাবে দেখা যায় দাখিল পরীক্ষা কেন্দ্রের মোট আয় ছিল ১ লাখ ২৩ হাজার ৬৯২ টাকা। বিপরীতে সম্মানীসহ ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৩৪০ টাকা। এতে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৪১ হাজার ৬৬৮ টাকা।

অন্যদিকে পরীক্ষা কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করা শিক্ষকদের মোট বরাদ্দ ছিল মাত্র ৩৪ হাজার ৮০০ টাকা। তবে অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষকরা জনপ্রতি মাত্র ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পেয়েছেন, যা নিয়ে ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
এই ঘাটতি পূরণের জন্য রাহমানিয়া মাদ্রাসা, ইটাখোলা ফাজিল মাদ্রাসা, সালেহাবাদ মাদ্রাসাসহ একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি জানাজানি হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠান প্রধানদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

ইটাখোলা ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আমির হোসেন জাকারিয়া বলেন,
“এ ধরনের বৈধ বা অবৈধ লেনদেনের দায় আমরা নিতে পারি না। আমাদের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা শেষ করে চলে গেছে, এখন এই টাকা আমরা কোথা থেকে দেব?”

সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, এ ধরনের বিধিবহির্ভূত অর্থ লেনদেনের ফলে পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে নকল, সহায়তা প্রদান এবং অন্যান্য অনিয়মের ঝুঁকি বাড়ে, যা পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

এ বিষয়ে মাধবপুরের ইউএনও জাহিদ বিন কাসেমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

অপরদিকে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম বলেন,“সম্মানী দেওয়া হয়ে থাকে। এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে বাধ্য নই।”

এ বিষয়ে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক শেখ মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম জানান,
“এ ধরনের সম্মানী গ্রহণ বিধিবহির্ভূত। মন্ত্রণালয় থেকে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

আরও পড়ুন

কমলাপুর স্টেডিয়ামের সব দোকানের বরাদ্দ বাতিল

তাক লাগানো ফল, নাছিমা কাদির মোল্লা স্কুলের ৩৮২ পরীক্ষার্থীর সবাই জিপিএ-৫

অলি আহমদের জন্য মনোনয়নপত্র নিল ১১ দল

ঢাকা-গোপালগঞ্জ রুটে ট্রেন চলাচল শুরু আজ

চাটখিলে সাবেক ছাত্র সমন্বয়ককে হামলার অভিযোগ,পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষে আহত ১১

সৌদি আরবে সোফা কারখানার আগুনে নিহতদের মধ্যে ১৩ জনের বাড়ি নওগাঁয়

নেত্রকোনায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন গ্রেপ্তার

গোপালগঞ্জে এক লাখ টাকা ধার ফেরত চাওয়ায় দম্পতিকে মারধরের অভিযোগ

ঘুষ নিয়ে টালবাহানা, টাকা ফেরত না দিয়ে হুমকি, নড়াইল ভূমি অফিসের কর্মচারীর বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন

গোপালগঞ্জ পাসপোর্ট অফিসে সেবার গতি বাড়াতে উদ্যোগ

গফরগাঁও-মাওনা সড়ক অধিগ্রহণের ভূমি ও স্থাপনায় বন্টন বাণিজ্য ; দালাল ছাড়া দুর্ভোগে মালিকগণ

বিআরটিএর উদ্যোগে গোপালগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত-আহত ৭৪ পরিবার পেল ৩ কোটি ৪৬ লাখ টাকা