নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
সিরাজগঞ্জে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নির্মিত আধুনিক বায়োমেডিক্যাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র উদ্বোধন করা হয়েছে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়ন এবং পরিবেশবান্ধব বায়োমেডিক্যাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু, এমপি।
রোববার (১২ জুলাই) সিরাজগঞ্জ জেলার সব স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের জন্য নির্মিত এই বায়োমেডিক্যাল ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট ফ্যাসিলিটি উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে মন্ত্রী এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, এই প্রকল্পের সুফল শুধু স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং তিন মিলিয়নেরও বেশি মানুষের জন্য নিরাপদ স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। অনিরাপদ বায়োমেডিক্যাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কারণে রোগ সংক্রমণের ঝুঁকি হ্রাস, পরিবেশের গুণগত মান উন্নয়ন এবং জেলার সর্বত্র স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ জীবনযাত্রা নিশ্চিত করতে এ উদ্যোগ কার্যকর অবদান রাখবে।
অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, এমপি বলেন, প্রতিবছর প্রায় ১৩০ টন পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপকরণ পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে এই কেন্দ্র সার্কুলার ইকোনমির নীতিমালা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর ফলে চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তিযোগ্য বর্জ্যের পরিমাণ কমবে, সম্পদের দক্ষ ব্যবহার বাড়বে এবং টেকসই শিল্পচর্চা উৎসাহিত হবে।
তিনি আরও বলেন, সিরাজগঞ্জ বায়োমেডিক্যাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র পরিবেশসম্মত স্বাস্থ্যসেবা বর্জ্য ব্যবস্থাপনার একটি সফল মডেল। এটি পরিবেশ সুরক্ষা ও সার্কুলার ইকোনমি এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি দেশের অন্যান্য জেলায় বাস্তবায়নের জন্য কার্যকর দৃষ্টান্ত হিসেবে কাজ করবে।
ইউনিডো সদর দপ্তরের সার্কুলার ইকোনমি অ্যান্ড রিসোর্স এফিসিয়েন্সি ইউনিটের প্রধান জেরোম স্টুকি বলেন, বাংলাদেশ সরকার ও প্রকল্পের অংশীদারদের যৌথ প্রচেষ্টায় পরিবেশসম্মত স্বাস্থ্যসেবা বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ অর্জন সম্ভব হয়েছে। শক্তিশালী অংশীদারিত্ব, উদ্ভাবনী উদ্যোগ এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক অঙ্গীকারের মাধ্যমে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য বাস্তব ও টেকসই সুফল অর্জন সম্ভব।
বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী গীতাঞ্জলি সিং বলেন, পরিবেশগত টেকসই উন্নয়ন এবং সহনশীল স্বাস্থ্যসেবা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে বাংলাদেশ সরকারের পাশে জাতিসংঘ ভবিষ্যতেও থাকবে। সিরাজগঞ্জের এ উদ্যোগ অংশীদারিত্বভিত্তিক সমন্বিত উন্নয়নের একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ইউনিডো, ভিয়েনার প্রকল্প ব্যবস্থাপক ড. রানা প্রতাপ সিং বলেন, সিরাজগঞ্জ বায়োমেডিক্যাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র ভবিষ্যতে সমন্বিত স্বাস্থ্যসেবা বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের একটি জাতীয় মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে বলে তিনি আশাবাদী।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জুবায়ের বিন আরাফাত। তিনি বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সমন্বিত সহযোগিতার ফলেই এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে। কৌশলগত অংশীদারিত্বের মাধ্যমে পরিবেশগত, জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক-অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি সুফল অর্জনের পাশাপাশি দেশের অন্যান্য এলাকাতেও এ ধরনের উদ্যোগ সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম। সভাপতিত্ব করেন সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আমিনুল ইসলাম।
এ সময় পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমান, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী, স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি, সুশীল সমাজ, বেসরকারি খাতের অংশীজন এবং গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।