নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
ইটভাটায় জ্বালানি হিসেবে কোনোভাবেই কাঠ পোড়ানো যাবে না বলে সতর্ক করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, এমপি।
আজ বুধবার (১৫ জুলাই) বাংলাদেশ সচিবালয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বাংলাদেশ ব্রিকস ম্যানুফ্যাকচারিং ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিবিএমওএ) প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
ইটভাটা শিল্পের পরিবেশগত প্রভাব, বায়ুমানের ব্যবস্থাপনা এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে এ সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় পরিবেশমন্ত্রী বলেন, ইটের বিকল্প এখনো পুরোপুরি তৈরি হয়নি। তাই ইটভাটা বন্ধ না করে কীভাবে এসব ভাটা থেকে সৃষ্ট দূষণ কমানো যায়, সেদিকে নজর দিতে হবে। নতুন নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে দূষণ কমানোর উদ্যোগ নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ইট তৈরিতে জমির উপরিভাগের মাটি (টপ সয়েল) ব্যবহার করা হলে জমির উর্বরতা নষ্ট হয়। এতে আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ দিন দিন কমছে। এ সমস্যার বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে ভাবতে হবে।
সভায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, এমপি বলেন, অবৈধ ইটভাটার বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। উচ্চমাত্রার সালফারযুক্ত কয়লা ইটভাটায় ব্যবহারের কারণে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। তাই কয়লা ব্যবহারের ক্ষেত্রে এর গুণগত মান নিশ্চিত করতে নীতিমালা করা জরুরি।
বাংলাদেশ ব্রিকস ম্যানুফ্যাকচারিং ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি ফিরোজ হায়দার খান এবং মহাসচিব মমিন উল্লাখানের নেতৃত্বে দেশের বিভিন্ন জেলার উপদেষ্টা ও সহসভাপতিসহ একটি প্রতিনিধি দল সভায় অংশ নেয়।
সভায় টেকসই ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির মাধ্যমে ইট উৎপাদন এবং পরিবেশ দূষণ কমানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা তাঁদের বিভিন্ন দাবি ও প্রস্তাব তুলে ধরেন। তাঁদের যৌক্তিক দাবিগুলো বিবেচনা করা হবে বলে সভায় সিদ্ধান্ত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম।
এ সময় মন্ত্রণালয়ের পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও আইন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. সাইদুর রহমান, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমান, অতিরিক্ত মহাপরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।