মাদারীপুর প্রতিনিধিঃ
ইতালি প্রবাসী হালিম খানকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে তার শ্বশুর সোমেদ চৌকিদারের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেছে গ্রামবাসী ও আত্মীয়-স্বজনেরা। রাজৈর উপজেলার বাদপাশা ইউনিয়নের দ্বারাদিয়া গ্রামে বুধবার সকালে এই ঘটনা ঘটে।
এ সময় বাড়ির রান্নাঘর, ধানের গোলাঘরসহ ঘরের ভেতরের জিনিসপত্র পুড়ে ছাই হয়ে যায়। খবর পেয়ে রাজৈর ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাতে সোমেদ চৌকিদারের মেয়ে জামাই ও ইতালি প্রবাসী হালিম খান নিহত হন। পরে তাকে রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে মরদেহ রেখে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে গ্রামবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং বুধবার সকালে নিহতের আত্মীয়-স্বজন ও গ্রামবাসী সোমেদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেন। তবে এ সময় সোমেদ চৌকিদার ও তার পরিবারের সদস্যরা পলাতক ছিলেন।
প্রসঙ্গত, চার বছর আগে প্রেম করে বিয়ে করেন দ্বারাদিয়া গ্রামের সোমেদ চৌকিদারের মেয়ে রেশমার সঙ্গে হালিম খান। এটি ছিল হালিম খানের দ্বিতীয় বিয়ে। ইতালিতে থাকা অবস্থায় শ্বশুর সোমেদের কাছে তিনি পঞ্চাশ লক্ষাধিক টাকা পাঠান। তিন মাস আগে দেশে ফেরার পর টাকার বিষয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ শুরু হয়। হালিম টাকা ফেরত চাইলে শ্বশুর, শ্যালক ও পরিবারের অন্য সদস্যরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, হত্যার আগে শ্যালক তাকে বাড়িতে ডেকে নেয়। হত্যার পর মরদেহ রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রেখে পালিয়ে যায় তারা।
ঘটনার পর গতকাল রাতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মামলার কোনো আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।