ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি
ট্রেন ভ্রমণের টিকিট কাটার সময় যাত্রীদের সামনে একটি পুরনো সমস্যা আবারও উঠে এসেছে—প্রতি সিটে ২০ টাকা অতিরিক্ত চার্জ। যদিও এটি “পরিষেবা উন্নয়ন” হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, তবুও দীর্ঘদিন ধরে এই চার্জ নেওয়া হলেও, এর সঠিক ব্যাখ্যা এখনও দেওয়া হয়নি, ফলে যাত্রীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, একাধিক সিট বুকিংয়ের ক্ষেত্রে একাধিকবার এই চার্জ নেওয়া হচ্ছে, যা যাত্রীদের জন্য অপ্রত্যাশিত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে।
যাত্রীদের অভিযোগ, একাধিক সিট বুকিংয়ের ক্ষেত্রে প্রতি সিটের জন্য অতিরিক্ত ২০ টাকা চার্জ নেওয়া হচ্ছে। এর মানে হলো, যদি একজন যাত্রী দুটি সিট বুক করেন, তবে তাকে প্রথম সিটের জন্য ২০ টাকা এবং দ্বিতীয় সিটের জন্যও ২০ টাকা অতিরিক্ত দিতে হচ্ছে, ফলে মোট অতিরিক্ত চার্জ ৪০ টাকা হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে, ভ্রমণের খরচ দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে, যা বিশেষত পরিবার বা দলবদ্ধ যাত্রীদের জন্য একটি বড় আর্থিক চাপ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। অনেক যাত্রী মন্তব্য করেছেন যে, এই অতিরিক্ত চার্জের কারণে তাদের ভ্রমণ ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা তাদের আর্থিক পরিকল্পনায় সমস্যা সৃষ্টি করছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ভোক্তা অধিকার ফেডারেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান সৈয়দ ফজলুল কবীর বলেন, “এই ধরনের অতিরিক্ত চার্জ নেওয়া পুরোপুরি অনৈতিক। পরিষেবা উন্নয়নের জন্য যে চার্জ নেওয়া হচ্ছে, তা যাত্রীদের কাছে স্পষ্টভাবে জানানো উচিত এবং একাধিক সিট বুকিংয়ের ক্ষেত্রে একই চার্জ বারবার নেওয়া উচিত নয়। এটি ভোক্তার অধিকার লঙ্ঘন করছে এবং জনগণের প্রতি অসাধু আচরণ।” তিনি আরও বলেন, “যাত্রীদের এই অতিরিক্ত চার্জ সম্পর্কে আগে থেকেই পরিষ্কার তথ্য দেওয়া উচিত, যাতে তারা তাদের ভ্রমণের পরিকল্পনা সঠিকভাবে করতে পারেন।”
এদিকে, যাত্রীদের মধ্যে একটি বড় প্রশ্ন উঠেছে, “এই অতিরিক্ত চার্জ কেন নেওয়া হচ্ছে?” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিষেবা উন্নয়নের জন্য অতিরিক্ত চার্জ নেওয়ার সিদ্ধান্তটি যাত্রীদের কাছে স্পষ্টভাবে জানানো উচিত এবং এই চার্জ কিভাবে প্রয়োগ হচ্ছে তা সঠিকভাবে বর্ণনা করা দরকার। বিশেষজ্ঞরা আরও পরামর্শ দিয়েছেন, একাধিক সিট বুকিংয়ের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত চার্জ এককভাবে নেওয়া উচিত। অর্থাৎ, প্রথম সিটের জন্য ২০ টাকা চার্জ নেওয়া হলেও পরবর্তী সিটের জন্য সেই চার্জ আর নেওয়া না হয়।
অনেক যাত্রী মন্তব্য করেছেন যে, এই ২০ টাকা চার্জ বাতিল করা উচিত, কারণ বর্তমানে ট্রেনের সেবা অনেক ক্ষেত্রেই এখনও অপ্রতুল এবং যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিতে এই অতিরিক্ত চার্জ প্রয়োজনীয় নয়। তারা যুক্তি দেন যে, অতিরিক্ত চার্জের মাধ্যমে যাত্রীদের উপর আর্থিক চাপ সৃষ্টি করা মানে সেবার প্রকৃত উন্নয়ন নয়, বরং এটি ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘনেরই নামান্তর। ট্রেন ভ্রমণের খরচ যদি বাড়ানো হয়, তবে যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্য এবং সেবা আরও উন্নত হওয়া উচিত, যা এখন পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে না।
যাত্রীদের এই অতিরিক্ত চার্জ সম্পর্কে আগে থেকেই পরিষ্কার ও সঠিক তথ্য দেওয়া উচিত, যাতে তারা আগেই তাদের বাজেট অনুযায়ী প্রস্তুতি নিতে পারেন এবং কোনও ধরনের অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে পারেন।
এ বিষয়ে এখনও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে যাত্রীদের অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখার প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হচ্ছে, এবং এর সমাধানে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি ও পরবর্তী পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন যাত্রীরা।