নিউজ ডেক্স
ফতুল্লার সব সাংবাদিকদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক’ সার্কেল) মো. হাসিনুজ্জামান। তিনি বলেন, “ফতুল্লার সব সাংবাদিকরা দালাল। থানার ওসি এবং এসপির রুমে বসে দালালি করেন তারা।” সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, “আপনারা থানায় আসবেন না, যদি তথ্য প্রয়োজন হয়, তাহলে ওসি কিংবা তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করুন।” এই মন্তব্যের পর তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে মারমুখী আচরণ করেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন যে, “এখনই থানার বাইরে একটি সাইনবোর্ড লাগিয়ে দিন, যাতে সাংবাদিকরা থানায় প্রবেশ করতে না পারেন।”
এ ঘটনা ঘটেছে মঙ্গলবার দুপুরে ফতুল্লা মডেল থানার দ্বিতীয় তলায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ক’ সার্কেল এর কার্যালয়ে, যেখানে তিনি নিজ কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে এই উত্তেজনাপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন।
জানা গেছে, সোমবার (১৭ মার্চ) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার পাগলা নয়ামাটি এলাকা থেকে ফতুল্লা মডেল থানার এএসআই আশিকুর রহমান এক অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন। ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি ফেসবুক মেসেঞ্জারে এক মেয়েকে কটুক্তি করেছেন। পরদিন মঙ্গলবার রাতে ঐ মেয়েটি থানায় এসে উপস্থিত হন এবং এ বিষয়ে দেন দরবার করতে থাকেন। বিষয়টির সুরাহা না হওয়ায় মঙ্গলবার দুপুরে ইন্সপেক্টর তদন্ত আনোয়ার হোসেনের কক্ষে উপস্থিত হয়ে মেয়েটি অভিযুক্ত ব্যক্তির উপর শারীরিক আক্রমণের প্রস্তুতি নেন।
এ ঘটনায় স্থানীয়রা থানায় গিয়ে তদন্ত কর্মকর্তাকে জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান যে, তারা মামলা করবেন। পরবর্তীতে মেয়েটিকে নিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. হাসিনুজ্জামানের কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময়, ঘটনাটি জানার জন্য কয়েকজন সাংবাদিক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এর কক্ষে প্রবেশ করলে, তিনি ফতুল্লায় কর্মরত সাংবাদিকদের সম্পর্কে অস্বস্তিকর মন্তব্য করেন।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. হাসিনুজ্জামানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।