কুড়িগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি) মাহফুজুর রহমানের বিরুদ্ধে সাংবাদিককে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার রাতে জেলার চিলমারী ও গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ সীমান্তবর্তী এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনা কাভার করতে গিয়ে দৈনিক স্বদেশ প্রতিদিন-এর উপজেলা প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর আলম সাদ্দাম এমন পরিস্থিতির শিকার হন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেলে এসপি মাহফুজুর রহমান সাংবাদিক সাদ্দামের মোবাইল ফোন কেড়ে নিতে তাঁর দেহরক্ষীকে নির্দেশ দেন এবং বলেন, “মিডিয়া ছুটায় দেব, চেনো আমাদের!” পরে মোবাইল থেকে ধারণ করা ছবি ও ভিডিও মুছে ফেলা হয়।
এর আগে সন্ধ্যায় জেলা সদরের সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসপি মাহফুজুর সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছিলেন। এটি ছিল তাঁর যোগদানের সাত মাস পর সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রথম আনুষ্ঠানিক আলোচনা।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক সাদ্দাম বলেন, “আমি নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিলে এসপি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তিনি সরাসরি হুমকি দেন এবং মোবাইল কেড়ে নেন। তাঁর এমন আচরণে আমি হতবাক হয়ে যাই। চাইলে তিনি আমাকে নিষেধ করতে পারতেন।”
চিলমারীর রমনা ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম আশেক আকা জানান, সাদ্দামের মন খারাপ দেখে ঘটনা জানতে চান এবং তখনই পুরো বিষয়টি জানতে পারেন।
তবে পুলিশ সদস্যরা এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। চিলমারী থানার ওসি আব্দুর রহিম জানান, “স্যার কাউকে চিনতেন না। তিনি শুধু জানতে চেয়েছেন, কে ভিডিও করছে। পরে বলেছেন রাতে ভিডিও না করতে। বিষয়টি এতো গুরুতর নয়।”
এদিকে কুড়িগ্রামের সাংবাদিক সমাজ এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। চিলমারী সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি সাওরাত হোসেন সোহেল বলেন, “এসপির এমন মন্তব্য সব সাংবাদিকদের প্রতি অবমাননাকর। আমরা এই আচরণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছি।”
কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহফুজার রহমান টিউটর বলেন, “একজন সরকারি কর্মকর্তার কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি জনগণের টাকায় বেতন পান, তাই তাঁর আচরণ হতে হবে পেশাদার ও সম্মানজনক।”
এসপি মাহফুজুর রহমানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাঁর কোনো সাড়া মেলেনি।