নাজমুল কবীর
মাদারীপুর জেলার রাজৈর উপজেলায় ঈদ উপলক্ষে পটকা বাজি ফাটানোকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এ সংঘর্ষে ইতিপূর্বে ২৫ জন আহত হয়। এরপর আবার নতুন করে পূর্ব মারামারির জের ধরে রবিবার দিবাগত রাতে সংঘর্ষ বাধে। এই সংঘর্ষে ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে, এতে প্রায় ৫০ জন আহত হয়। গতকাল রবিবার (১৪ এপ্রিল) দিবাগত রাতে রাজৈর বেপারী পাড়া মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনী দীর্ঘ সময় পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈদ পরবর্তী সময় গত ২ এপ্রিল রাজৈর উপজেলার পশ্চিম রাজৈর ফুচকা ব্রিজ এলাকায় পটকা বাজি ফাটায় বদরপাশা গ্রামের আতিয়ার আকনের ছেলে জুনায়েদ আকন ও তার বন্ধুরা। এসময় পশ্চিম রাজৈর গ্রামের মোয়াজ্জেম খানের ছেলে জোবায়ের খান ও তার বন্ধুরা মিলে তাদের বাধা দেয়। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এবং এরই জের ধরে গত ৩ এপ্রিল সকালে রাজৈর বেপারী পাড়া মোড়ে জোবায়েরকে একা পেয়ে পিটিয়ে তার ডান পা ভেঙে দেয় জুনায়েদ ও তার লোকজন। পরে আহত জোবায়েরের বড় ভাই অনিক খান (৩১) বাদি হয়ে জুনায়েদকে প্রধান করে আটজনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরো ৪/৫ জনকে আসামি করে রাজৈর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসে ওঠে বদরপাশা ও পশ্চিম রাজৈর গ্রামের লোকজন। একপর্যায়ে আজ শনিবার (১২ এপ্রিল) দিবাগত রাতে দুই গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। গতকাল রবিবার রাতে ৭.০০ ঘটিকায় আবারও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। অপর দিকে, মারামারি বন্ধ করার জন্য পশ্চিম রাজৈর এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা মজুমদার কান্দির সহযোগিতা চাওয়ার জন্য রাজৈর বাসস্ট্যান্ডে আসেন। তখন উভয় এলাকার মুরব্বিদের নিয়ে আলোচনা করছিলেন। ওদিকে, পুলিশ সংবাদ পায় যে, মারামারি করার জন্য লোকজন জড়িত হচ্ছে। এই সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ রাজৈর বাসস্ট্যান্ডে এসে মিটিং করা লোকদের মধ্যে থেকে হঠাৎ দুইজনকে ধরে ফেলে। তখন উত্তেজিত জনতা পুলিশের ওপর আক্রমণ করলে দুই পুলিশ সদস্য আহত হন।