বিপ্লব ইসলাম,
লংগদু,(রাংগামাটি)
পাহাড়ের পরতে পরতে ও রাস্তার দুইপাশের গাছগুলো ডালপালা জড়িয়ে ছাতার মতো শেড তৈরি করেছে। সবুজ পাতার ফাঁক গলিয়ে সে সব ডালগুলো ছেয়ে গেছে বেগুনি রঙের ফুলে। হালকা নিলুয়া বাতাসে রাস্তার উপর কিংবা ফসলের মাঠে ঝরে পড়ছে সে ফুলগুলো। দেখলে মনে হয় কোনো অতিথিকে বরণ করতে সাজানো হয়েছে। এমনই নয়নাভিরাম সৌন্দর্যের জানান দিচ্ছে রাংগামাটি জেলার লংগদু উপজেলার পথ, ঘাট ও পাহাড়ের পাদদেশে ফোটা জারুল ফুল।
গ্রীষ্মের কাঠফাটা রোদে পুড়ছে প্রকৃতি সঙ্গে সবুজ পাতায় রৌদ্রের নির্মমতা। তার ফাঁকে বেগুনি-সাদার অপূর্ব সমন্বয়ে মায়াবী চোখ মেলে তাকিয়ে আছে নয়নকাড়া জারুল সুন্দরী। দৃষ্টিনন্দন বর্ণচ্ছটায় বেগুনি রঙে এখন অপূর্ব লংগদু উপজেলার সব কয়কটি ইউনিয়নের রাস্তা,ঘাট সহ নদী কিনারা। সবুজ প্রকৃতির বুকে বেগুনি জারুল যেন হাতছানি দিয়ে ডাকছে।
লংগদু উপজেলা ঘুরে দেখা যায়,মাইনী মুখ, করল্যাছড়ি, ভাসান্যাদম,বগাচতর, কালাপাকুজ্জা,লংগদু সদর সহ গুলশাখালী ইউনিয়নের পথ ঘাট
সজ্জিত হয়েছে জারুলের ঝুমকোতে। ফুলে ফুলে সৃষ্টি করেছে অপরূপ নান্দনিকতার। লংগদু উপজেলার সকল রাস্তা,ঘাট সহ বনজ বাগান সাজিয়ে তুলেছে নতুন সাজে। যোগ করেছে নতুন সৌন্দর্যের মাত্রা।
জারুলকে বলা হয় বাংলার চেরি। গ্রীষ্মে অপূর্ব হয়ে ফোটে এই ফুল। চোখ ভরে যায় তার রূপ দেখে। প্রয়াত অসংখ্য সংগীতশিল্পী সহ কবি দার্শনিকরা জারুল ফুলকে নিয়ে লিখে গেছেন অসংখ্য গান,কবিতা সহ নানান লেখা।
জারুল ফুলের এমন মনকাড়া সৌন্দর্যে মুগ্ধ অত্র উপজেলার প্রকৃতি প্রেমীরা সহ জনসাধারণ। কেউ কেউ মুগ্ধ হয়ে স্থিরচিত্র ধারণ করে তা শেয়ার করছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে। উপজেলায় এখন হালকা পাতলা কৃষ্ণচূড়ার লাল রঙের সঙ্গে একক রাজত্ব করছে বেগুনি রঙের জারুল ফুল।
জারুল ফুলের সৌন্দর্যে বিমোহিত হয়ে জারুল গাছের গোড়ায় বিশ্রাম নিতে আসা ক্লান্ত কৃষক নুর হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মগো এহিনের মানুষের ফুল গাছ রওয়া লাগে না,মগো অঞ্চলের মানুরা জঙ্গলের এই জারুল গাছ দেইক্কাই মজা পায়,শহরের বেডা মানু আর মাতারীরা তো আর এবিল ফুল দেখতে পারেনা। উনারা দেহে সব পেলাষ্টিের ফুল
জারুল ফুলের সৌন্দর্যের কথা জানতে উপজেলার সাংবাদিক ও পরিবেশ কর্মী আরমান খান বলেন,সমগ্র পাহাড়ি জনপদ সহ লংগদু উপজেলার অন্যতম নজরকাড়া জারুল ফুল। এর বেগুনি রঙের মায়ায় হারিয়ে যাই দূর অজানায়। যত দেখি ততই ভালো লাগে। বুনো ফুল জারুলের সৌন্দর্য মুখে বলে প্রকাশ করা সম্ভব নয়। এমনকি এই অঞ্চলের একটি গ্রামের নাম করনও করা হয়েছে জারুল বাগান।