নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
জুলাই-আগস্ট ২০২৪ গণঅভ্যুত্থানে আহত সাংবাদিকদের পেশাগত মনোন্নয়নের লক্ষ্যে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)-এর উদ্যোগে আজ থেকে শুরু হয়েছে তিনদিনব্যাপী সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণ কর্মসূচির দ্বিতীয় ধাপ। ৯ থেকে ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত চলা এ প্রশিক্ষণে সারাদেশ থেকে মোট ২৮ জন সাংবাদিক অংশগ্রহণ করছেন, যারা গণঅভ্যুত্থানের সময় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন।
আজ পিআইবির সেমিনার কক্ষে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ।
উদ্বোধনী বক্তব্যে মাননীয় সচিব মাহবুবা ফারজানা বলেন, “সাংবাদিকদের গুজব ও অপতথ্যের বিরুদ্ধে কলমের শক্তি ব্যবহার করতে হবে—ফিচার লিখে, তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন তৈরি করে কিংবা কাউন্টার ন্যারেটিভ গড়ে তুলে, তাদের সোচ্চার ভূমিকা রাখতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “জুলাই আন্দোলনে ঘটনাপ্রবাহের তুলনায় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর ভূমিকা ছিল অনেক বড়। সে অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সাংবাদিকদের উচিত ডিজিটাল সাংবাদিকতায় আরও দক্ষতা অর্জন করা। এই তিনদিনব্যাপী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সাংবাদিকরা ডিজিটাল সাংবাদিকতার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জন করবেন, যা ভবিষ্যতে যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতি আরও দক্ষতার সঙ্গে মোকাবেলা করতে সহায়ক হবে।”
পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ বলেন, “সামনে জাতীয় নির্বাচন। যেকোনো মূল্যে অপতথ্য রুখে দিতে হবে—হোক সেটা ইন্টারনেট, কিংবা এআই প্ল্যাটফর্ম। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরও আমরা দেখতে পাচ্ছি, জুলাইয়ের ঘটনার নানা বিকৃত রূপ এখনও ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে সাংবাদিকদের দায়িত্ব হচ্ছে সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করা এবং জনগণকে বিভ্রান্তি থেকে রক্ষা করা। এই লক্ষ্য অর্জনে ডিজিটাল সাংবাদিকতার কৌশল ব্যবহার করে তাৎক্ষণিকভাবে তথ্য যাচাই ও প্রচার করতে হবে। মাঠপর্যায়ে পাওয়া সত্যকে দ্রুত জনগণের সামনে তুলে ধরাই হবে অপতথ্য মোকাবেলার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।”
প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে ডিজিটাল সাংবাদিকতা, প্রয়োজনীয় অ্যাপস ও টুলস ব্যবহারের কৌশল, মাইক্রোফোন ও হেডফোন ব্যবহার করে অডিও ধারণ, ভিডিও শুটিং ও এডিটিং, সাংবাদিকতার নৈতিকতা এবং ট্রমা মোকাবেলার ওপর বিশেষ সেশন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
প্রশিক্ষণে প্রশিক্ষক হিসেবে রয়েছেন ডেফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক ড. জামিল খান, ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের অ্যাডজাঙ্কট ফ্যাকাল্টি নাজিয়া আফরিন মনামী, ব্র্যাকের কমিউনিকেশন স্পেশালিস্ট শাফাত রহমান এবং ফ্যাক্টচেকার রিদওয়ান ইসলাম প্রমুখ।
পিআইবি জানিয়েছে, এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচিটি চলমান থাকবে এবং পর্যায়ক্রমে তালিকাভুক্ত সাংবাদিকদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে।