বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট খন্দকার হাসান শাহরিয়ার, তাঁর আইনজীবী প্রতিষ্ঠান “হাসান এন্ড এসোসিয়েটস” এর মাধ্যমে একটি আইনগত নোটিশ দিয়েছেন শো মোশন লিমিটেড (স্টার সিনেপ্লেক্স) এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এর প্রতি।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, শো মোশন লিমিটেড কর্তৃক অ্যাডভোকেট খন্দকার হাসান শাহরিয়ারকে আক্রমণাত্মক, মানসিক ও আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন করা হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে, আইনজীবী উক্ত প্রতিষ্ঠানকে এক কোটি টাকা নগদ ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে শো মোশন লিমিটেডের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন। নোটিশে বলা হয়েছে, অন্যথায়, উচ্চ আদালতে রিট দায়েরসহ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ঘটনা সূত্রে জানা গেছে যে, অ্যাডভোকেট খন্দকার হাসান শাহরিয়ার ৩০ মার্চ ২০২৫ তারিখে শো মোশন লিমিটেডের ওয়েবসাইট থেকে দুটি সিনেমা টিকিট কিনেছিলেন। এর মধ্যে ৩১ মার্চ ২০২৫ তারিখে দুপুর ২টায় “বরবাদ” সিনেমার টিকিট নিয়ে তিনি সিনেমাটি উপভোগ করেন, কিন্তু ১ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে সন্ধ্যা ৭:৩০ মিনিটের “চক্কর ৩০২” সিনেমার টিকিট নিয়ে তিনি সীমান্ত সম্ভারের স্টার সিনেপ্লেক্সের কাউন্টারে গেলে জানানো হয় যে, টেকনিক্যাল সমস্যার কারণে সিনেমাটি বাতিল করা হয়েছে।
এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি শো মোশন লিমিটেডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে, তারা ৩১ মার্চ ২০২৫ তারিখে তাকে মোবাইলে ফোন করে নিশ্চিত করেন যে, সিনেমা দেখার কোনো সমস্যা হবে না, তবে পরে একই দিন ১ এপ্রিল তারিখে জানানো হয় যে সিনেমাটি বাতিল করা হয়েছে।
এছাড়া, শো মোশন লিমিটেডের কর্মকর্তারা বিষয়টির কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে না পারায় এবং ঈদুল ফিতরের ছুটির আগেও কোনও বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় আইনজীবী খন্দকার হাসান শাহরিয়ার ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
আইনজীবী তাঁর নোটিশে আরও দাবি করেছেন যে, শো মোশন লিমিটেডের অব্যবস্থাপনা এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মনিটরিংয়ের অভাবের কারণে সাধারণ জনগণ নিয়মিত হয়রানির শিকার হচ্ছেন। বিশেষত, স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন ও সিনেমা হলের খাবারের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির কারণে ভোক্তা অধিকার ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।
এখন দেখার বিষয়, শো মোশন লিমিটেড এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এই ঘটনায় কি পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।