উন্নয়নের নামে প্রকল্প, কিন্তু বাস্তবে কৃষকের জমি দখলের অভিযোগ—নীরব প্রশাসন, আতঙ্কে স্থানীয়রা
অসীম চন্দ্র দাস, ব্রাহ্মণবাড়িয়া,
সরাইল উপজেলার খাল পুনঃখনন প্রকল্পকে ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। যে প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ছিল পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত করা এবং কৃষিতে সহায়তা করা, সেই প্রকল্পের খননকৃত মাটি এখন উল্টো কৃষিজমি দখলের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, প্রভাবশালী একটি মহল খাল খননের মাটি ব্যবহার করে পাশের উর্বর কৃষিজমি ভরাট করছে। এতে ধীরে ধীরে জমির আকার ও প্রকৃতি পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে স্থায়ী দখলের পথ তৈরি করছে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, খাল খননের পর মাটি সরানোর কোনো সুষ্ঠু পরিকল্পনা না থাকায় এই সুযোগ নিচ্ছে দখলদাররা।
একাধিক কৃষক বলেন,
“আমাদের জমির পাশেই মাটি ফেলে উঁচু করা হচ্ছে। কয়েকদিন পর দেখব, জমিটাই আর আমাদের নেই।”
তাদের অভিযোগ, বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হলেও এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
এ ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রকাশ্যে জমি ভরাট চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যত নীরব।
সচেতন মহল বলছে,
এই নীরবতা কেবল অবহেলা নয়, বরং একটি সংগঠিত অনিয়মকে প্রশ্রয় দেওয়ার শামিল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এভাবে খাল খননের মাটি অপরিকল্পিতভাবে ফেলা হলে—
পানি চলাচল বাধাগ্রস্ত হতে পারে
কৃষিজমির উর্বরতা কমে যেতে পারে
দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে
এলাকাবাসীর প্রধান দাবিগুলো হলো:
অবিলম্বে অবৈধভাবে ফেলা মাটি অপসারণ
প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা
দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ প্রদান।
সরাইলের এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করে, উন্নয়ন প্রকল্পের সঠিক তদারকি না থাকলে তা সাধারণ মানুষের জন্য আশীর্বাদ নয়, বরং অভিশাপে পরিণত হতে পারে।
অন্যায়ের বিরুদ্ধে নীরবতা যত দীর্ঘ হবে, ততই শক্তিশালী হবে দখলদার চক্র—এমন আশঙ্কাই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে সরাইলবাসীর মনে।